When turned on automatically changes
the theme color on reload.
When turned on automatically changes
the theme color every 5 sec.
ডেমন শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে ভয়ের অনুভূতি জাগে। বিভিন্ন ধর্ম, মিথোলজি ও কল্পকাহিনিতে ডেমনদের নিয়ে প্রচুর আলোচনা রয়েছে। কিন্তু ডেমন কী? কেবল কল্পনা নাকি সত্যিকার কোনো অস্তিত্ব আছে? এই পর্বে আমরা ডেমনদের উৎপত্তি, তাদের প্রকৃতি এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিতে তাদের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো।
"ডেমন" শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ "Δαίμων" (Daimon) থেকে, যার অর্থ আত্মিক সত্তা বা ঈশ্বরিক শক্তি। প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস তার "ডাইমনিক ভয়েস" বা এক ধরনের অন্তর্দৃষ্টি সম্পর্কে বলেছিলেন। অর্থাৎ, প্রথমদিকে "ডেমন" শব্দের অর্থ খারাপ কিছু বোঝাত না, বরং এটি ছিল একটি নিরপেক্ষ বা ঈশ্বরীয় শক্তি।
কিন্তু পরবর্তীতে খ্রিস্টান ধর্মের প্রচারের সময় এই ধারণাটি বদলে যায় এবং ডেমনদের খারাপ শক্তির রূপে চিত্রিত করা হয়।
গ্রীক দার্শনিক প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের মতে, ডেমনরা ছিল অর্ধ-ঈশ্বরীয় সত্তা, যারা মানুষের সাথে দেবতাদের যোগাযোগ করাতে সাহায্য করত।
হেসিওড (Hesiod) নামের একজন প্রাচীন লেখক বলেন, ডেমনরা আদতে মৃত মহান ব্যক্তিদের আত্মা, যারা পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তার করে।
রোমানরা বিশ্বাস করত, "জিনিয়াস" (Genius) নামক আত্মারা প্রতিটি মানুষের সাথে থাকে, যারা তাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রাচীন মিশরে "সেত" (Seth) এবং "আপেপ" (Apophis) নামে কিছু দেবতাকে অশুভ শক্তির উৎস হিসেবে দেখা হতো।
সুমেরীয় সভ্যতায় "লিলিথ" (Lilith) নামে এক আত্মাকে ডেমন হিসেবে চিত্রিত করা হয়, যে রাতে শিশুদের আক্রমণ করত।
ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থে কিছু "শেদিম" (Shedim) নামে আত্মার কথা বলা হয়েছে, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
খ্রিস্টান ধর্মে ডেমনদের মূলত পতিত ফেরেশতা (Fallen Angels) হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ইসলাম ধর্মে ডেমনদের সাথে জ্বীন শব্দটি সম্পর্কিত। কোরআনে বলা হয়েছে, "জ্বীনদের মধ্যে কিছু ভালো এবং কিছু খারাপ রয়েছে।"
হিন্দু ধর্মে "অসুর" এবং "রাক্ষস" শব্দগুলো প্রায়ই ডেমনের মতো সত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়।
বৌদ্ধ ধর্মে "মারা" নামক এক আত্মিক শক্তির কথা বলা হয়েছে, যা মানুষের আত্মজ্ঞান অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
ডেমনদের সম্পর্কে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে, যা তাদের বিভিন্ন ক্ষমতা সম্পর্কে ধারনা দেয়।
আকৃতির পরিবর্তন: ডেমনরা যে কোনো রূপ নিতে পারে।
মানুষের উপর প্রভাব: কেউ কেউ বিশ্বাস করে, ডেমনরা মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
বিশেষ জাদুবিদ্যা: অনেকে মনে করে, বিশেষ কিছু মন্ত্র বা ব্ল্যাক ম্যাজিকের মাধ্যমে ডেমনদের ডাকা যায়।
অনেকে দাবি করেন, ডেমনরা মূলত বিশুদ্ধ শক্তি (Pure Energy) যা মানুষের আবেগের সাথে সংযুক্ত থাকে।
এটি এক বিতর্কিত প্রশ্ন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডেমনদের অস্তিত্ব আসলে মানুষের ভয় ও কল্পনার ফসল। কিন্তু বহু ধর্মীয় ও প্যারানরমাল গবেষকরা দাবি করেন যে, ডেমনরা সত্যিকারের অস্তিত্বশীল আত্মিক সত্তা যারা আমাদের পৃথিবীতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
কেউ কেউ বলে, "বিশ্বাস করলেই তুমি অনুভব করবে, আর যদি বিশ্বাস না করো, তবে কিছুই ঘটবে না!"
ডেমনদের সম্পর্কে নানা সংস্কৃতিতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রাচীন গ্রীক ও রোমানদের কাছে এটি ছিল একধরনের ঈশ্বরিক শক্তি, আবার খ্রিস্টান ধর্মে এটি শয়তানের সহযোগী। হিন্দু ও ইসলাম ধর্মে এই সত্তাকে যথাক্রমে অসুর ও জ্বীন হিসেবে দেখা হয়।
পরবর্তী পর্বে আমরা ডেমনদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও তাদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।